দেশি মুরগির ঝিমানো রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

প্রিয় বন্ধু আজ আপনাকে জানানো হবে,দেশি মুরগির ঝিমানো রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসা। যারা মুরগি পালন করে থাকে তারা অধিকাংশ সময় জানার জন্য প্রশ্ন করে থাকে,দেশি মুরগির ঝিমানো রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসা। তাই আজ আপনার প্রশ্নের উত্তর নিয়ে এই আর্টিকেল,দেশি মুরগির ঝিমানো রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসা।
দেশি মুরগির ঝিমানো রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসা
বন্ধুরা, যারা নতুন মুরগি পালনের জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে তারা মুরগীর বিভিন্ন রোগ এবং ওষুধ সম্পর্কে প্রশ্ন করে থাকছে। তাদের এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর এই পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই পোস্ট করার মাধ্যমে হয়তো আপনি আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যেতে পারেন।

ভূমিকা

প্রিয় বন্ধুরা আজকে এ পোস্টটা আপনাদের মুরগি লালন পালন ও মুরগির ওষুধের তালিকা এবং খাবারের তালিকা জানানো হবে, বেশিরভাগ গ্রামের বাড়িগুলোতে অনেকেই মুরগি পালন করে থাকে। শুধু যে খামারে মুরগি পালন করা হয়ে থাকে এইটা না। গ্রামের প্রতিটা বাড়িতেই প্রায় মুরগি দেখা যায়। মুরগির মাংস, ডিমের চাহিদা অনেক বেশি হয়ে থাকে। মুরগি সব সময় খোলা থানে পালন করা হয়ে থাকে। যদি মুরগির বাচ্চা অল্প বয়সে মারা যায় তাহলে সে বাচ্চা পুষ্টির অভাবে মারা যায়। 

এবং অনেক মুরগি রয়েছে পুষ্টির অভাবে বেড়ে ওঠে না। দেশি মুরগির যদি সঠিকভাবে যত না হয়ে থাকে তাহলে সে মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে। এছাড়াও অনেকে এটা মনে করেন যে মুরগির অসুখ হলে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। এমনি এমনি মুরগি ভাল হয়ে যায়। কিন্তু এগুলা ভাবা ঠিক না মুরগির অসুখ হলে তাকেও চিকিৎসার অধীন করা দরকার, এছাড় াও আছে আপনাদের মুরগির অসুখ হলে প্রাকৃতিক ওষুধ কি, কি হবে এই ওষুধগুলো খাওয়াতে হয়। 

এছাড়াও মুরগির অনেক সময় দেখা যায় যে মনের রোগ হয় তো মুরগির জন্য রোগের প্রাকৃতিক ঔষধ। এছাড়াও মুরগির ঝিমানো ওষুধের নাম কি কি এসব কিছু আজ বিস্তারিতভাবে এই পোস্ট টে আপনাদের জানানো হবে। তো বন্ধুরা চলুন আজ আমরা এগুলো বিস্তারিতভাবে জেনে আসি।

দেশি মুরগির ওষুধের তালিকা

প্রিয় বন্ধুগণ আজ আপনাদের কে এই পোষ্টের মাধ্যমে মুরগির ওষুধের তালিকা বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। অনেকেই বুঝে না বুঝে মুরগীকে ওষুধ খাইয়ে থাকেন। কিন্তু এটা ঠিক না, মুরগির বয়স অনুযায়ী তার ওষুধের তালিকা রয়েছে, এজন্য আজ আপনাদের সুবিধার্থে জানিয়ে দেয়া হবে,দেশি মুরগির ওষুধের তালিকা ।প্রথম দিন, গ্লুকোজ মুরগির বয়স যখন দ্বিতীয় , দ্বিতীয় থেকে চতুর দিন পর্যন্ত এম ক্সাসিলিন। হৃদয় থেকে পঞ্চম দিন, আইবি আর এনডি লাইফ ভ্যাকসিন.

দশম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত গামবোরো লাইভ ভ্যাকসিন। ১২ দিকে ১৪ দিন পর্যন্ত, লিভারটনিক এবং সাথে ভিটামিন। ১৮ থেকে ২২ দিন পর্যন্ত গানবোরো লাইভ ভ্যাকসিন। ২৪ থেকে ২৬ দিন পর্যন্ত এনডি লাইভ ভ্যাকসিন ও এম্প্রোলিয়াম,সিপ্রো। এবং ৩০ দিনে খাওয়াতে হবে, ফাউলপক্স ভ্যাকসিন। 

৩৫ দিনে কৃমিনাশক, এবং ৪৫ থেকে ৪৮ দিন পর্যন্ত খাওয়াতে হবে, রানীক্ষেত লাইভ ভ্যাকসিন। এবং ৫০ তম দিন থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে ভিটামিন ও লিভারটনিক এবং প্রবায়োটিক ওষুধ খাওয়ানো হয়ে থাকে।

দেশি মুরগির ঝিমানো রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

প্রিয় বন্ধুগণ আজ আপনাদেরকে এই পোস্টে জানানো হবে,দেশি মুরগির ঝিমানো রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসা। প্রিয় বন্ধুগণ মুরগির অসুখ হলে অনেক সময় অনেক লোক ধরে থাকেন প্রাকৃতিক উপায়ে কিভাবে এই ওষুধগুলো সারানো যায়। আজ আপনাদেরকে তাই বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে,দেশি মুরগির ঝিমানো রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসা। মুরগির রোগ ঘর আসল কারণগুলো হল, ও পরিষ্কার পরিবেশ ও পরিষ্কার পানি এবং নোংরা পানি। 

আপনি যেখানে মুরগি পালন করছেন সে এলাকাটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে। সে জায়গার নোংরা ফেলে দিতে হবে। এবং মুরগিকে সুস্থ রাখতে হলে, হলুদের পানি, পটাশিয়াম, পারম্যাঙ্গনেট য়িশিয়ে পানি খাওয়াতে হবে। এছাড়াও রোগ প্রতিরো ধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রসুন ও পেঁয়াজ খাওয়াতে হবে। এছাড়া তিতা ওষুধি গাছ যেগুলো রয়েছে সেগুলো খাওয়াতে হবে। এই ওষুধগুলো পরজীবী প্রতিরোধ করে। এছাড়াও পিঁপের সাদা আঠা মুরগির কৃমি দূর করে থাকে। 

এছাড়া অপরাজিতা আনার জন্য মুরগির ঘরে সুগন্ধি ছড়িয়ে রাখতে হবে। এছাড়াও আপনি আদাজল ,লবঙ্গ ,নিম পাতার রস ,তুলসী পাতার রস ,এইসব মুরগিকে খাওয়াতে পারেন ‌। এছাড়াও কেরোসিন ও চাল একসঙ্গে মিশে মুরগিকে খাওয়াতে পারেন। ১০ গ্রাম চালে এক ফোটা কেরোসিন দিয়ে মুরগিকে খাওয়াতে হবে। এছাড়া মুরগি বসবাস করে সে জায়গায়, কেরোসিনের পানি স্প্রে করতে হবে। 

এছাড়াও আদা ব্লেন্ড করে আদারস মুরগিকে খাইয়ে দিতে হবে। কারণ আদার রস মুরগির ভাইরাস জনিত সমস্যা দূর করে থাকে। এছাড়াও লবঙ্গ ভিজানো পানি মুরগির ঝিমানো রোগ প্রতিরোধ করে থাকে।

মুরগির চুনা পায়খানার ওষুধ

প্রিয় বন্ধুগণ আজ আপনাদেরকে এই পোস্টটি সহজ ভাবে বুঝিয়ে দেয়া হবে,মুরগির চুনা পায়খানার ওষুধ । মুরগির রোগ হয় মূলত খাবারে গরমিল হওয়ার কারণে। এবং মুরগির যদি সাদা চুনা পায়খানা হয়ে থাকে তাহলে, প্রথম অবস্থায় আপনি মুরগিকে, জেন্টোমাইসিন ৩ মিলি করে খাওয়াতে হবে এবং ইনজেকশন দিতে হবে। এছাড়াও মুরগিকে মাল্টিভিটামিন 0.1 এম এর করে মোট ০.৪ এম এল খাওয়াতে হবে। এবং ইনজেকশন নিয়মিত পাঁচ দিতে হবে। 

মুরগির চুনা পায়খানা এই রোগটি রানীক্ষেত ভাইরাস রোগের লক্ষণ। এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আপনি এর লক্ষণ হিসেবে দেখবেন মুরগির ডিম পাড়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ সময় মুরগিকে অন্যান্য মুরগী তুলনায় আলাদাভাবে রাখতে হয়।

মুরগির ঝিমানো রোগের ওষুধের নাম

প্রিয় বন্ধুগণ অনেকেই দেশি মুরগি লালন পালন করে থাকি। দেশি মুরগি লালন পালন এর প্রথম উদ্দেশ্য হলো ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণ করা, যারা বাড়িতে মুরগি পালন করে তারা অনেক সময় মুরগি অসুখ-বিসুখের বিষয়ে তেমন সচেতন হয় না। কিন্তু যারা , খামারে মুরগি পালন করে থাকে তারা মুরগি খামারে ওঠানোর তিন সপ্তাহের মধ্যে মুরগিকে সকল রোগের ভ্যাকসিন দিয়ে থাকবেন। কারণ দেশি মুরগি বেশিদিন ধরে লালন পালন করতে হয়। 

মুরগির যদি ঝিমানোর রোগ শুরু হয় সে ক্ষেত্রে আপনি, Oxybet blous এবং Reena machine ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এ দুইটা ওষুধ পানিতে মিশে তিন দিন খাওয়াতে হবে। এরপর যদি মুরগির অসুখ ভালো না হয়। মুরগি যদি ঝিমানো থাকে। তাহলে,এমোক্সিলিন,মক্সোসিলিন গ্রুপের ওষুধ আপনি মুরগিকে খাওয়াতে পারেন। 

এসব ওষুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে আপনার মুরগির রোগ সেরে যাবে বলে আশা করা যায়। এবং আপনি এই পোস্ট থেকে বুঝে গিয়েছেন কি হবে মুরগির ওষুধ খাওয়াতে হবে।

মুরগির ঝিমানো রোগের নাম

দেশি মুরগি হোক অথবা ব্রয়লার ,সোনালী কম বেশি সব ধরনের মুরগি বিভিন্ন ধরনের রোগের জন্য ঝিমাতে থাকে। মুরগির ঝিমাতে থাকে কোন একটি রোগে আক্রান্ত হলে। বিভিন্ন রোগের কারণেই মুরগির ঝিমিতে পারে। যেসব রোগে মুরগির ঝিমাই সব রোগ হল-ভাইরাস ও ইনফেকশন, আমাশয়, কলেরা, টাইফয়েড, মারেক্স ডিজিজ, বসন্ত, গামবোরো,রানীক্ষেত, ইভিয়ান গাউট, এছাড়াও বিভিন্ন কৃমি জনিত রোগের জন্য মুরগি অনেক সময় ঝিমায়। 

সম্ভবত এসব রোগের জন্য বা এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে মুরগি ঝিমায়। আপনি যদি মুরগি ঝিমাচ্ছে এমন দেখতে পান তাহলে যত দ্রুত সম্ভব মুরগিকে সুস্থ করার চেষ্টা করবেন। মুরগি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে এ রোগ থেকে সারানোর পরামর্শ নিবেন। কেননা আপনি বুঝতে পারছেন মুরগির রোগে আক্রান্ত হয়েছে ।এ অবস্থায় চিকিৎসা করা ভালো চিকিৎসা না করে রেখে দিলে মুরগি মারা যেতে পারে।

শেষ কথা

প্রিয় বন্ধুরা আজকের এই পোস্টে আপনারা মুরগির ঝিমান রোগের ওষুধ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তথ্য জেনেছেন। যারা সবসময় এসব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন বা অনলাইনে সার্চ দেন তাদের জন্যই আজকের এই আর্টিকেল লেখা হয়েছে। এই পোস্টে মুরগির বিভিন্ন রোগের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আপনি যদি এসব কিছুর বাহিরে ও মুরগির আরো কোন রোগ বিষয়ে জানতে চান তাহলে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানিয়ে যাবেন। 

এই পোস্টটি পড়ে আশা করা যায় আপনি মুরগির বিভিন্ন রোগ ও ওষুধ সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে ধারণা পেয়ে গেছে। আপনার যদি আজকের এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে এই ওয়েবসাইটটি প্রতিদিন ভিজিট করে যাবেন। কারণ প্রতিদিন এই ওয়েবসাইটে এরকম তথ্যমূলক আর্টিকেল পোস্ট করা হয়ে থাকে ‌। এবং এতক্ষণে ওয়েবসাইটের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ,ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ফার্স্ট ব্লগার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url